জাতভেদ বিহীন সমাজের সমস্যা কী কী হতে পারে ?
মানব প্রজন্মের সঙ্গেই শুরু হয়েছিল সমাজ ব্যবস্থা, কিন্তু তা হয়তো আমরা আমাদের বিজ্ঞান মনষ্কতার কারনে একটু উদাস থেকে বুঝতে না পারার চেষ্টাই করেছি।।।
অনেক পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় গ্রন্থ মহাভারতের উৎপন্ন হয়।।।
সত্যি মহাভারত খুব ভালো একটা গ্রন্থ, অবশ্যই সেখানে শেখার জন্য অনেক কিছুই আছে, সমাজ মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতি র এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই মহাভারত। আজকের আলোচনার বিষয় ও সেই মহাভারতের ই একটা একটা অংশের একটু আলোচনা।
আমরা মহাভারত কে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কোন থেকে দেখতে পারি এবং তার বিভিন্ন মানে ও বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে করতে পারি,
তবে আজকের পোস্ট টা মহারথী কর্ন কে নিয়ে।
যে মহারথী কর্ন এর জন্ম হয়েছিল দেবি কুন্তীর গর্ভে কুমারী অবস্থায়। ভগবান সূর্যদেবের ঔরষে।
এর পরের ঘটনা কমবেশি অনেকেরই জানা আছে,
তাই যথা সম্ভব ছোট্ট পরিসরে বলার চেষ্টা করবো।
মহাভারতের মহারথী কর্নের বাল্যকাল কাটে এক সুত পরিবারে। অর্থাৎ এক রথ চালকের বাড়িতে।
কিন্তু সমস্যা টা হল তখন, যখন মহারথী কর্ন নিজের পালিত পিতা র মত রথ চালক না হয়ে একজন যোদ্ধা হতে চায়।
এবং সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের মধ্যে ভেদা ভেদ দুর করে এক নব যুগের সুচনা করতে চায়। কর্নের এই নীতি সারা ভারত বর্ষে প্রচুর পরিমাণে মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
তাই বর্তমান সময়ে যদি সমাজের দিকে নজর দেওয়া যায়, তাহলে দেখবেন আজ সমাজের সর্বত্র কর্নের সেই নীতি বিরাজমান, আমরা ও বেশিরভাগ সময় এটা মেনে নিতে প্রস্তুত যে সত্যি এটা একটা খুব সুন্দর নিয়ম,
কিন্তু একটু খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখতে পাবেন, এখনো পর্যন্ত সমাজের অনেক মানুষ ই এই নিয়মকে সহজে মেনে নিতে পারেনি। এবং তারা হল তত্কালীন সমাজ পতি সহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এর দল।
ঐ সমস্ত গুনি ব্যাক্তি বর্গকে অবমাননা করে আমরা সেই রকম ভুল করেছি, যে রকম ভূল বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে তাদের বাবা-মা কে ভুল বুঝে করে।
তাই আজ দ্বাবীংশ শতাব্দী তে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই-- ওগো সভ্য সমাজের দল, স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে কর্নকে অধর্মের পথে যাওয়ার জন্য শাস্তি দিয়ে ছিলেন, তোমরা দয়া করে সেই মহাবীর কর্নের মত সুক্ষ ভুলের স্বীকার হয়োনা 😭😭😭।
এ এমন এক ভূলের নাগপাশ যেখানথেকে ফিরতে হলে আমাদের এখনি সচেতন হতে হবে। নয়তো স্বয়ং সবর্ব শক্তিমান ভগবানের হাতে মরতে হবে।
অনেকে এখনো পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারছে না যে আসলে আমাদের ভূল টা কোথায় ?
তাঁদের কে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি😭😭😭
আসলে সমাজে সমানতার নামে আমরা এগিয়ে চলেছি অজানা এক অন্ধকার এর দিকে।
আমরা যারা মনে করি যে সমাজে সবাই এর সমান অধিকার আছে
তাহলে কেন আমরা আমাদের বাড়ির ছোট্ট ছেলেটি
বা মেয়েটি র আবদার পুরন করিনা ?
কেন আজ বাংলা সহ সারা ভারত বর্ষের মানুষ মানষিক বিকার সহ বেকারত্ব গ্রস্ত ?
কেন বর্তমান সমাজ সরকার নামক একটি ক্ষমতার প্রতি ক্ষুদার্থ চোখে তাকিয়ে ?
কেন সরকার তার নিজের ক্ষমতা রক্ষা করতে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে ব্যবহার করছে, যা সাধারণ মানুষ ও জানে এবং জনসাধারণ ও জানে। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলতে পারে না। কেন আজ সমাজ এই বিকার গ্রস্থ ?
কেন ? কেন ? কেন ?
আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত থেকে বলতে পারি যে এ সব কিছুর মুলেই হচ্ছে সমাজ থেকে জাতিভেদ প্রথা উঠে যাওয়া।।
কারন মানুষ জাতি হল প্রত্যেকটা দেশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। আর একটা মানুষকে যেমন সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে হলে উচিত তার প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে সঠিক নিয়মে চালনা করা, তেমনি দেশের বিকাশের ক্ষেত্রে ও উচিত প্রত্যেক সমাজের, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সঠিক নিয়মে পরিচালিত হওয়া।।
প্র) এখন আমরা একটা জিনিষ দেখবো যে জাতিভেদ প্রথার মুল কারন টা কী ?
উঃ) জাতিভেদ প্রথা মুলত সৃষ্টি হয়েছিল মানুষের জীবিকার উপর নির্ভর করে।
অর্থাৎ আমি যদি লোহার জিনিস পত্রের কাজ করি তাহলে আমি কামার।
আবার আমি যদি আমরা জীবিকা নির্বাহ করার জন্য জমিতে লাঙ্গল করি তাহলে আমি চাষী।
যদি আমি সমাজে কাপড়ের তৈরি জিনিসপত্র যোগান দেই তাহলে আমি তাঁতি।
এই ভাবে তত্কালীন ভারতীয় সমাজে প্রচুর পরিমাণে জাতির উত্পত্তি হয়েছিল তাদের প্রত্যেকের জীবিকার উপর নির্ভর করে।
কিন্তু মহা ভারতের কর্ন ছিলেন একজন বেজন্মা ব্যক্তি।
তাই তিনি তার পালিত পিতার মত হতে চান নি।
তিনি একজন সৈনিক হয়েছিলেন, কারন তার শরীরে ভগবান সূর্যের রক্ত ছিল।
আবার আমরা এত সব না ভেবে আমরাও প্রত্যেকে ঐ মহারথী কর্নের মত হতে চাইলাম, এখানে একটা জিনিষ কাজ করেছে আর সেটা হল যে আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মায়ের চরিত্র কে কলঙ্কিত করলাম, তা ও আবার আমাদের নিজেদের অজান্তেই।
বা হয়তো এমন ও হতে পারে, সত্যিই হয়তো আমাদের মায়েরা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, হয়তো বাবা ছিলেন অন্য কেউ, তাই আমরা আমাদের বর্তমান পিতার মত না হয়ে হয়তো সেই অজ্ঞাত কোন পুরুষের মতো হতে চাই।
সর্বোপরি বলতে পারি, সমাজে জাতিভেদ প্রথা না থাকলে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যখন একটি জীবিকার পেছনে দৌড়বে, তখন সমাজের অন্যা্ন্য প্রসাধনীর অভাবে সমাজ এক চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।
যা বর্তমানে সারা ভারত বর্ষে দেখা যায়।
সরকারি চাকরি পদ সংখ্যা ১০০ কিন্তু প্রার্থী সংখ্যা ১০০০০০ ।
আপনারাই বলুন কী করবেন ?
Comments
Post a Comment